‘আমি এতিম, তাই দিনটা এতিমদের সঙ্গে কাটাব’

অক্টোবর ১১, ২০১৭ : ১:৩৩ অপরাহ্ণ || দৈনিক বাস্তবতা

print
আপনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।
ধন্যবাদ।
৫০ বছর হলো। কেমন মনে হচ্ছে?
আগে ভাবতাম ৫০ বছর মানে অনেক সময়, অনেক বয়স। এখন দেখছি কিছুই না! আজ সকাল থেকে মনে হচ্ছে, অনেক কিছু করতে হবে। অনেক কাজ বাকি রয়ে গেছে। আমাকে এই জগতে পাঠানো হয়েছে একটা মিশন দিয়ে। পজিটিভ মিশন। এই মিশন সফলভাবে শেষ করতে চাই। মানুষের জন্য, দেশের জন্য এমন কিছু করতে চাই, যা থেকে সবার কল্যাণ হবে, সবার উপকার হবে।
কাল রাত ১২টায় কী করেছেন?
বাসায় আমার ছেলেমেয়ে তো আছেই, ভাইয়ের ছেলেমেয়ে, বোনের ছেলেমেয়ে সবাই এসেছে। সবাই মিলে সন্ধ্যা থেকে নানা কিছু করেছে। আমাকে জানতে দেয়নি। আমি যখনই ওদের রুমে ঢোকার চেষ্টা করেছি, ওরা দেয়নি। আমাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য তাদের ছিল নানা আয়োজন। ভালোই লেগেছে।
আপনার স্ত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ তো দেশের বাইরে?
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি সাংস্কৃতিক দল গিয়েছিল। মৌ এই দলের অন্যতম সদস্য। ওদের আজ দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু আমার জন্মদিন, তাই গতকাল মঙ্গলবার রাতেই মৌ দেশে ফিরেছে। বিমানবন্দরে নেমে আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে।

৫০তম জন্মবার্ষিকী একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আজ এই দিনটি কীভাবে উদযাপন করছেন?
প্রথমে ভেবেছিলাম বড় আকারে একটা অনুষ্ঠান করব। ঢাকা ক্লাবে বুকিং দিতে চেয়েছি। পরে ভেবে দেখলাম, এসব করব না। আমি নিজেও এতিম, মা-বাবা নেই। তাই আজকের দিনটা এতিমদের সঙ্গে কাটাব। আজ ঢাকার বিভিন্ন এতিমখানার ১ হাজার ছেলেমেয়েকে দুপুরের খাবার খাওয়াব। ধানমন্ডির এক এতিমখানায় আমি আজ ওদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খাব।
আজ নিশ্চয়ই মাকে খুব মনে পড়ছে?
হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন। পাশাপাশি আমার দাইমাকে খুব মনে পড়ছে। তখন তো আজকের মতো উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা ছিল না। সেই মফস্বলে ডেলিভারির জন্য এই দাইমাদের ওপর নির্ভর করতে হতো। আমি খুবই ভাগ্যবান, সেই দাইমার দক্ষতার কারণে আমার কোনো ক্ষতি হয়নি। আমি সুস্থ এবং স্বাভাবিকভাবে জন্মেছি। এখনো ভালোভাবে আছি। আমি যেমন আমার মায়ের জন্য দোয়া করি, তেমনি দাইমার জন্যও দোয়া করি।
সেই দাইমা বেঁচে আছেন?
এখন বেঁচে নেই। ১৭ বছর আগে আমি আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘বিহঙ্গ’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলাম। তখন সাভারে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) আমরা শুটিং করেছিলাম। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি টেইলরের সঙ্গে কথা হয়। তখন জানতে পারি, মায়ের ডেলিভারির সময় অসংখ্য শিশুর ক্ষতি হয়। তখন একটু ভুলের জন্য অনেক শিশু প্রতিবন্ধী কিংবা বিকলাঙ্গ হয়। ওই সময় আমার দাইমার কথা মনে পড়ে। ভাবি আর বোনকে দায়িত্ব দিই তাঁকে খুঁজে বের করার জন্য। তখন আমার মা-ও বেঁচে ছিলেন। একসময় ভাবি আর বোন তাঁকে খুঁজে পান। তাঁরা দাইমাকে আমার পাঠানো কিছু উপহার দেন। শুনেছি, দাইমা খুব খুশি হয়েছিলেন।
আগামী দিনগুলোর জন্য একটি প্রতিশ্রুতির কথা বলুন।
আর রাগ করব না। মাঝে মাঝে একটু বেশি রাগ করে ফেলি। রাগ করার কিছুক্ষণ পরই তা ভুলে যাই। কিন্তু যার ওপর রাগ করি, তিনি তা মনে রাখেন। ভোলেন না। এখন থেকে আরও বেশি পজিটিভ হব।
আপনার তো বর্ণাঢ্য জীবন। অনেক অভিজ্ঞতা। এসব নিয়ে কিছু ভেবেছেন?
আত্মজীবনী লিখব। ভাবছি এখন থেকেই লেখা শুরু করব। যতই বলি, ৫০ বছর সময়টা কিন্তু কম নয়। আর তাকে দুই মলাটে বন্দী করা মোটেও সহজ ব্যাপার না। আমার জন্য দোয়া করবেন।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on Twitter0Share on LinkedIn0Share on Reddit0



Daily Bastobota | bangla news
সম্পাদক : মোঃ জান্নাতুল বাকি
প্রকাশক : আব্দুল মান্নান তালুকদার
মোক্তার বার ভবন (২য় তলা), নিউ মার্কেট রোড, বাগেরহাট।
টেলিফোন : ০৪৬৮-৬৪৭১১
ই-মেইল: dbastobota@gmail.com