কেশবপুরে স্কুলছাত্রীকে গুলির ঘটনা ২০ হাজার টাকায় রফা

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৮ : ৬:৩২ অপরাহ্ণ || দৈনিক বাস্তবতা

print
কেশবপুর প্রতিনিধি :

যশোরের কেশবপুরে হুমকির মুখে মাত্র ২০ হাজার টাকায় ধামা চাপা পড়েছে স্কুল ছাত্রীকে গুলি করার ঘটনাটি। এ ঘটনায় পুলিশ দু‘দফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও ন্যূনতম একটি জিডিও গ্রহণ না করায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়ে ওই স্কুল ছাত্রীর পরিবারকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বাধ্য করায়। ফলে শেষ পর্যন্ত দরিদ্র পরিবারটি ন্যায় বিচার পাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে জানা গেছে, পৌর এলাকার বায়সা গ্রামের করিমন চালক আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে কেশবপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির একজন মেধাবী ছাত্রী। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া আসার পথে একই গ্রামের মৃত আহম্মদ মোড়লের ছেলে বখাটে আব্দুস সাত্তার তাকে উত্ত্যাক্ত করতো। এরই প্রতিবাদ করায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে আব্দুস সাত্তার একটি এয়ারগান নিয়ে প্রতিবেশী আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে যায়। মেয়েটির মা মনিরা বেগম জানান, সাত্তার যখন তাদের বাড়িতে ঢোকে তখন তাঁর স্কুল পড়ুয়া কন্যা ঘরের বারান্দায় বসে সকালের নাস্তা করছিল। এ সময় সাত্তার উদ্দেশ্য মূলকভাবে ইয়ারগান দিয়ে তাঁর মেয়ের পিঠে গুলি করে। এতে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে তাকে কেশবপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করে। পরবর্তীতে তাকে যশোর কুইন্স হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করে শরীর থেকে গুলি বের করা হয়। গত ২০ ফেব্রুয়ারী তাঁর মেয়েকে বাড়িতে আনা হলেও সে এখনও স্বাভাবিক হতে পারেনি।

এ ঘটনার পর থেকে আব্দুস সাত্তার বাড়িঘরে তালা দিয়ে স্বপরিবারে গা ঢাকা দেয়। সাবদিয়া-বায়সা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুকুল হোসেন জানান, আব্দুস সাত্তার বিএনপির একজন সক্রিয় ক্যাডার। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক রটে গেলে কেশবপুর থানার এএসআই শ্যামল সরকারের নেতৃত্বে পুলিশ দু‘দফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও করিমন চালক পরিবারটি কোন আইনগত সহায়তা পায়নি। এমন কি এ ঘটনায় ন্যূনতম একটি জিডিও গ্রহণ করা হয়নি। তবে এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে, ধর্ণাঢ্য আব্দুস সাত্তার লাখ লাখ টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নামলেও করিমন চালক পরিবারটিকে হুমকি দিয়ে মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামা চাপা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারী সরেজমিনে গেলে আব্দুস সাত্তারের বাড়িঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। এ সময় তাঁর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগে করলে সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার সাথে সাথেই সে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। পরবর্তীতে মেয়েটির বাড়িতে যাওয়া হলে প্রথমে কেউ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়নি। এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্র্তা (তদন্ত) শাহজাহান আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ না করলে আমার করার কিছুই নেই।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on Twitter0Share on LinkedIn0Share on Reddit0



Daily Bastobota | bangla news
সম্পাদক : মোঃ জান্নাতুল বাকি
প্রকাশক : আব্দুল মান্নান তালুকদার
মোক্তার বার ভবন (২য় তলা), নিউ মার্কেট রোড, বাগেরহাট।
টেলিফোন : ০৪৬৮-৬৪৭১১
ই-মেইল: dbastobota@gmail.com