খুলনার ভৈরব পাড়ে পদ্মা পাড়ের আমেজ 

খুলনার ভৈরব পাড়ে পদ্মা পাড়ের আমেজ 

জুলাই ২৩, ২০১৮ : ৮:১৬ অপরাহ্ণ || দৈনিক বাস্তবতা

print
শরিফা খাতুন শিউলী, খুলনা : আষাঢ়ের পড়ন্ত বিকেল তবুও ভ্যাপসা গরম। গরমের উত্তাপ শরীরের চামড়ার ভিতরে ঢুকছে। একটু প্রশান্তির জন্য নির্মল বাতাস শরীরে লাগাতে শত শত মানুষ ছুটে আসছে ভৈরবের পাড়ে।

খুলনা মহানগরীর কোল ঘেষে ভৈরব নদের ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট এলাকা এখন দর্শনার্থীদের উন্মুক্ত বিনোদন কেন্দ্র। যা রাজশাহীর পদ্মার পাড়ের মতো চিত্তবিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হচ্ছে। দিন যতই যাচ্ছে বিনোদনপ্রেমীদের ভিড় ততই বাড়ছে এক সময়ের আতঙ্কের এ ঘাট এলাকায়। কুখ্যাত খুনী এরশাদ শিকদারের আস্থানা হিসেবে পরিচিত ঘাটগুলোয় ভুলেও সাধারণ মানুষ পা বাড়াত না। এরশাদ শিকদারের ফাঁসির পরও মাদক বিক্রেতা ও অসামাজিক কাজের জায়গা হিসেবে পরিচিত ছিল ঘাট এলাকা। এখন জোড়াগেট থেকে বড়বাজার পর্যন্ত ভৈরবের পাড় দিয়ে হাঁটলে এক ধরণের প্রশান্তি অনুভব হয়।

খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) সূত্রে জানা গেছে, জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ভৈরবের তীর ঘেঁষে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে।  ২০১৬ সালের ৬ জুন সড়কটি উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া ভৈরব নদের ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট এলাকা নতুন করে সাজায় খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। ভৈরবের পাড়ে তীরে প্রতিরক্ষা ব্লক বসানো, ফুটপাতে টাইলস বসানো, দর্শনার্থীদের বসার জন্য ছাতা, নদীর তীরে তিনটি গ্যালারি, লাইটিং ও পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে।

খুলনার ভৈরব পাড়ে পদ্মা পাড়ের আমেজ 

নীল আকাশের নিচে শান্ত ভৈরবের নির্মল বাতাস। কখনও ভাঙা ভাঙা ঢেউ। এসব মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে হাজারো মানুষ ছুটে আসেন ভৈরব পাড়ে। শীতল বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে যায় দর্শনার্থীদের। সন্ধ্যার পর ভৈরবের এ দুই ঘাট এলাকায় জ্বলে উঠে বৈদ্যুতিক আলোর ঝলকানি। যে কারণে রাত ১০-১২ টা পর্যন্ত জটলা লেগে থাকে ঘাট এলাকায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শুক্রবার (০৬ জুলাই) ছুটির দিন হওয়ায় লোকারণ্য হয়ে গেছে ভৈরব নদের ৬ ও ৭ নং ঘাট। বিশুদ্ধ বাতাস আর নদীর সৌন্দর্যের টানে ছুটে আসছেন মানুষ। কেউ এসেছেন বন্ধু-বান্ধব নিয়ে, কেউ এসেছেন পরিবার নিয়ে। তাদের কেউ নদীর পাড়ে বসে আড্ডা দিচ্ছেন, কেউবা মগ্ন  প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগে, আবার কেউ কেউ ভৈরবের বুকে বেড়ানোর জন্য নৌকায় উঠে পড়েছেন।  মানুষের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থায়ী ও অস্থায়ী খাবারের দোকানও গড়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, কুখ্যাত খুনী এরশাদ শিকদারের আস্থানা হিসেবে পরিচিত ছিলো এ দুটি ঘাট। ঘাটগুলোয় ভুলেও সাধারণ মানুষ পা বাড়াত না। এখন রাজশাহীর পদ্মা পাড়ের মতো ভৈরবের পাড়ে বসার জায়গা করায় বিনোদনপ্রেমীরা এখানে ছুটে আসছেন। যে কোন উৎসবের ছুটিতে তিল ধারণের জায়গা থাকে না।

ঘুরতে আসা এনজিও কর্মী নেছার উদ্দিন বলেন, শহরে তেমন একটা ঘোরার কোথাও জায়গা নেই। নির্মল বিনোদনের জায়গা ভৈরবের পাড়। এখানের বিশুদ্ধ বাতাস আর কোথাও নেই। তাইতো এখানে পরিবার নিয়ে মাঝে মধ্যে ঘুরতে আসি।

ইরফান সাজু নামের এক দর্শনার্থী বলেন, খুলনার মানুষের কাছে দিনি দিন এই স্থানটি খুবই প্রিয় হয়ে উঠছে। সুযোগ পেলেই বিশুদ্ধ বাতাস নিতে ছুটে আসেন এখানে।  এর মধ্যে তরুণ তরুণীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

 

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on Twitter0Share on LinkedIn0Share on Reddit0

Tags:



Daily Bastobota | bangla news
সম্পাদক : মোঃ জান্নাতুল বাকি
প্রকাশক : আব্দুল মান্নান তালুকদার
মোক্তার বার ভবন (২য় তলা), নিউ মার্কেট রোড, বাগেরহাট।
টেলিফোন : ০৪৬৮-৬৪৭১১
ই-মেইল: dbastobota@gmail.com