নওগাঁয় বিলুপ্তির পথে রাতের সাথী হারিকেন

ডিসেম্বর ২৬, ২০১৭ : ৩:৩১ অপরাহ্ণ || দৈনিক বাস্তবতা

print
মোঃ খালেদ বিন ফিরোজ, নওগাঁ প্রতিনিধি:

হারিকেন! নিকট অতীতের গ্রামীণ জীবন যাত্রায় হারিকেনের অবদান কোন ভাবেই অস্বীকার করা যায়না। বৈদ্যুতিক কিংবা চায়নাবাতির প্রচলন যখন ছিলনা, ঘুটঘুটে অন্ধকার কিংবা পূর্নিমার আলোর ঝলকানির রাতেও হারিকেন তার সামান্যতম আলো দিয়ে গ্রাম বাংলার প্রতিটি মানুষকে স্বাভাবিক জীবন যাপনে সাহায্য করে আসছিল যুগ যুগ ধরে। দেশের ৬৮ হাজার গ্রাম বাংলার প্রতিটা মানুষের অন্যতম ভরসা ছিল হারিকেন বা কুপি বাতি। অনেকে আবার ‘টেমি’ নামেও চেনে। অতীতের অনেক উচ্চ পদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তা দেশ পরিচালনায় অবদান রেখেছেন-এখনো যারা রাখছেন, তাদের প্রায় সকলেই তাদের লেখাপড়া শিখেছেন হারিকেনের মৃদু আলোর সাহায্যেই। গৃহস্থালী এবং ব্যবসার কাজেও হারিকেনের ব্যাপক চাহিদা ছিল। তবে এখন সেই হারিকেনের দৃশ্যত: ঠাঁই হয়েছে জাদুঘরে। হারিকেনের স্থান দখল করেছে নানা ধরনের বৈদ্যতিক বাতি। বৈদ্যতিক ও চায়নাবাতির কারণে শহরে হারিকেনের ব্যবহার অনেক আগেই বন্ধ হয়েছে। এখন তা গ্রামাঞ্চল থেকেও বিলুপ্ত হচ্ছে। হারিকেন জ্বালিয়ে বাড়ির উঠানে বা বারান্দায় পড়াশোনা করতো শিক্ষার্থীরা। রাতের বেলায় পথ চলার জন্য ব্যবহৃত হতো হারিকেন।

হারিকেনের জ্বালানী আনার জন্য প্রতি বাড়িতেই থাকতো কাঁচের বিশেষ ধরনের বোতল। সেই বোতলে রশি লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হতো। হাটের দিনে সেই রশিতে ঝুলানো বোতল হাতে যেতে হতো হাটে। এ দৃশ্য বেশি দিনের নয়। পল্লী বিদ্যুতায়নের যুগে এখন আর এমন দৃশ্য চোখে পড়ে না। প্রাচীন বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য কুপি বাতি বা টেমি কিংবা হারিকেন এখন শুধুই স্মৃতি। গ্রামের অমাবস্যার রাতে মিটি মিটি আলো জ্বালিয়ে মানুষের পথ চলার স্মৃতি এখনও তাড়া করে। চলচ্চিত্রের প্রথম আমলের ছবিগুলোর দিকে এক নজর তাকালেই তার কিছুটা নমুনা পাওয়া সম্ভব। যেখানে সিনেমার নায়িকা তার ভালোবাসার মানুষটিকে অন্ধকার রাতে খুজে পেতে কুপি হারিকেন নিয়ে ছুটে আসে। আবার বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ‘‘ডাক হরকরা’’ গল্পের নায়ক তার এক হাতে হারিকেন আর অন্য হাতে বল্লব নিয়ে রাতের আধারে ছুটে চলে তার দায়িত্ব পালনে।

দিন দিনই প্রযুক্তি মানুষকে উন্নত করছে যার কারনে হারিকেন ছেড়ে মানুষ এখন বিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছে। তাপ বিদ্যুৎ, জল বিদ্যুত, সৌর বিদ্যুৎ সহ জ্বালানী খাতে ব্যাপক উন্নয়নে ঐতিহ্যবাহী হারিকেন আজ বিলুপ্তির পথে। এছাড়া প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুতকে সংগ্রহ করারও পন্থা আবিস্কার করেছে বিজ্ঞানীরা। চার্জ লাইট, সৌর বিদ্যুতসহ বেশ কিছু আলোর যোগান থাকায় এখন আর কেউই ঝুঁকছেন না হারিকেনের দিকে। প্রবীণরা মনে করেন, এক সময় হারিকেন দেখতে যেতে হবে জাদুঘরে। নতুন প্রজন্ম হয়তো জানবেও না হারিকেন কি ও হারিকেনের ইতিহাস! চীন, জাপান সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ খুব দ্রুতই চার্জ সংরক্ষনকারী আলোর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে। এক সময় হয়তো চিরতরে বিলুপ্ত হবে হারিকেন।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on Twitter0Share on LinkedIn0Share on Reddit0

Tags: , , , , , , , ,



Daily Bastobota | bangla news
সম্পাদক : মোঃ জান্নাতুল বাকি
প্রকাশক : আব্দুল মান্নান তালুকদার
মোক্তার বার ভবন (২য় তলা), নিউ মার্কেট রোড, বাগেরহাট।
টেলিফোন : ০৪৬৮-৬৪৭১১
ই-মেইল: dbastobota@gmail.com