বাগেরহাটে গ্রাম আদালত বিষায়ক মত বিনিময় সভা

নভেম্বর ২২, ২০১৮ : ৭:৩২ অপরাহ্ণ || দৈনিক বাস্তবতা

print
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাগেরহাটে গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কমিউনিটি মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে জেলার রামপাল উপজেলার রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে বাংলাদেশ সরকার, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন এবং ইউএনডিপি এর আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প এর আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রাজনগর ইউপি চেয়ারম্যান সরদার আব্দুল হান্নান ডাবলুর সভাপতিত্বে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মোঃ জহিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর মহিতোষ কুমার রায়।
মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, গ্রাম আদালতের উদ্দেশ্য, গ্রাম আদালতের সুবিধাদি এবং গ্রাম আদালত সক্রিয় করণে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দানের মাধ্যমে শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এরপর তিনি রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের নথীপত্র পরিদর্শন করেন এবং পরে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেন।
ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর মহিতোষ কুমার রায় বলেন, অত্র ইউপিতে জুলাই ২০১৭ থেকে অক্টোবর ২০১৮ পর্যন্ত সময়কালে মোট ৪৬ টি মামলা দায়ের হয়েছে যার মধ্যে ৪৪ টি মামলা গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে মোট ২৯,৫০০.০০ টাকা আদায় করে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষকে প্রদান করা হয়েছে। অত্র ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত পরিচালনার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান মহোদয় কর্তৃক নিজস্ব উদ্যোগে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আলাদা একটি আদালত কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে যেখানে প্রকল্প থেকে সরবরাহকৃত গ্রাম আদালতের এজলাস স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাম আদালতের বিচারকদের পরামর্শ করার জন্য আদালত কক্ষের পাশে একটি পরামর্শ কক্ষ এবং গ্রাম আদালত সহকারীদের জন্য একটি কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে যা গ্রাম আদালতের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

উল্লেখ্য, ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত পরিচালিত হয় গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ (সংশোধন, ২০১৩) এবং গ্রাম আদালত বিধিমালা, ২০১৬ এর মাধ্যমে। গ্রাম আদালত আইন অনুযায়ী অনধিক ৭৫,০০০.০০ (পচাঁত্তর হাজার) টাকা মূল্যমানের ফৌজদারী ও দেওয়ানী মামলা গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়। গ্রাম আদালত কার্যকর হলে গ্রামের দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠী অল্প খরচে, অল্প সময়ে হয়রানি মুক্ত হয়ে স্থানীয়ভাবে ন্যায় বিচার পাবে। বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতকে সক্রিয় করার জন্য প্রকল্পের পক্ষ থেকে প্রকল্পভূক্ত ইউপিতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি একজন করে আদালত সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিট ইউপিতে ০১ টি করে এজলাস ও প্রয়োজনীয় ফরমস সরবরাহ করা হবে। ০৩ বছর মেয়াদী প্রকল্পটি বাগেরহাট জেলায় ১০ ডিসেম্বর ২০১৬ খ্রিঃ থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এবং ২০১৯ সালে শেষ হবে। প্রকল্পটি বাগেরহাট জেলায় সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে গ্রামের দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠী স্থানীয়ভাবে ন্যয়বিচার পাবে, কোর্ট কাচারির হয়রানির হাত থেকে মানুষ রেহাই পাবে এবং আদালতের মামলার চাপ কমবে যা বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on Twitter0Share on LinkedIn0Share on Reddit0



Daily Bastobota | bangla news
সম্পাদক : মোঃ জান্নাতুল বাকি
প্রকাশক : আব্দুল মান্নান তালুকদার
মোক্তার বার ভবন (২য় তলা), নিউ মার্কেট রোড, বাগেরহাট।
টেলিফোন : ০৪৬৮-৬৪৭১১
ই-মেইল: dbastobota@gmail.com