আশুরার ফজিলত

আশুরার ফজিলত

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮ : ৫:৩৪ অপরাহ্ণ || দৈনিক বাস্তবতা

print
মুহাররম আরবি মাসের মধ্যে তাৎপর্য পূর্ণ একটি মাস। সৃষ্টির সূচনা হয় মুহাররমের দিনে এবং সৃষ্টির সমাপ্তিও ঘটবে এ দিনেই। আরবি বারটি মাসের মধ্যে যে চারটি মাসকে হারাম বা সম্মানিত বলে কুরআন শরিফ ও হাদিস শরিফ-এ ঘোষণা করা হয়েছে, মুহাররম মাস তার মধ্যে অন্যতম।আর আরবি বছরের প্রথম মাস মুহাররম।
আশুরার ফজিলত
১০ই মুহাররম হযরত আলী(রা.) ও ফাতিমার রা.-এর কলিব্জার টুকরা ইমাম হুসাইন(রা.)স্বপরিবারের উনিশজন সদস্যসহ বাহাত্তরজন অনুসারীকে ইয়াজিদ বাহিনী কর্তৃক কারবালা প্রন্তরে নির্মমভাবে শাহাদত বরণ করতে হয়েছিল। প্রতিটি মুসলিমের হৃদয় আজ সেব্যাথাই ব্যতিথ । আর তাই মুহাররম মাসের আগমনে মুসলমানদের হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে যায়। পৃথিবীর শুরু থেকেই মুহাররমের দশম দিবস অতি পূণ্যময় ও তাৎপর্যপূর্ণ এবং এ মাসটি অত্যন্ত সম্মানীত ও মর্যাদাপূর্ণ হিসাবে বিবেচিত। আর এই মহররম মাসের রয়েছে অনেক ফজিলত।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হচ্ছে আল্লাহর মাস মুহাররম (মাসের রোজা)। [সহিহ মুসলিম]

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, তিনি পূর্ববর্তী এক বছরের পাপ ক্ষমা করে দেবেন। [সহিহ মুসলিম]

আল্লাহ্ রাববুল আলামিন যেদিন আকাশ, বাতাস, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, জান্নাত-জাহান্নাম, লাউহু মাহফুজ ও যাবতীয় সৃষ্টি জীবের আত্মাসৃজন করেন, সে দিনটি ছিল ১০ই মুহাররম তথা আশুরা দিবস। শুধু তাই নয় বরং আদম আ. এর সৃষ্টির দিন ও ছিল ১০ই মুহারম, হযরত নূহ আ. এর জাহাজ ৮০জন সহচর নিয়ে যেদিন নিরাপদে জুদী পর্বতে অবতরণ করেছিল সে দিনটিও ছিল ১০ই মুহাররম। এভাবে হযরত ইউসুফ আ. এর কুপ থেকে উদ্ধার। আয়ুব আ. এর আরোগ্য লাভ, হযরত ইউনুস আ. এর মৎস উদর হতে মুক্তি লাভ, মূসা আ. এর পরিত্রাণ, হযরত ইবরাহিম আ. নমরুদের অগ্নিকুন্ড থেকে মুক্তি পেয়ে ছিলেন যে দিনটিতে সে দিনটিও ছিল ১০ই মুহাররম। শুধু কী তাই? বরং ঐদিন অর্থাৎ ১০ইং মুহাররমেই হাশর ও কিয়ামত সংঘটিত হবে বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রা. বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরা-মুহররমের দশম দিনে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে-

১. আশূরা উপলক্ষে দুটি রোজা রাখা। অর্থাৎ ৯, ১০ অথবা ১০, ১১ তারিখ। শুধু ১০ তারিখ রোজা রাখা মাকরূহ।

২. সম্ভব হলে উক্ত দিনে যারা রোজা রাখবে তাদের এক বা একাধিকজনকে ইফতার করানো।

৩. সাধ্যমত দান-সদকা করা।

৪. গরিবদেরকে পানাহার করানো।

৫. ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলানো তথা পাশে দাঁড়ানো।

মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) … আবূ বাকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা‘আলা যেদিন আসমান যমীন সৃষ্টি করেছেন, সে দিন থেকে সময় যেরূপে আবর্তিত হচ্ছিল আজও তা সেরূপে আবর্তিত হচ্ছে। বারো মাসে এক বছর। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। যুল-কা‘দাহ, যূল-হিজ্জাহ ও মুহাররম তিনটি মাস পরপর রয়েছে। আর এক মাস হল রজব-ই-মুযার যা জুমাদা ও শাবান মাসের মধ্যে অবস্থিত।(বুখারী-২৯৭০)

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on Twitter0Share on LinkedIn0Share on Reddit0

Tags: ,



Daily Bastobota | bangla news
সম্পাদক : মোঃ জান্নাতুল বাকি
প্রকাশক : আব্দুল মান্নান তালুকদার
মোক্তার বার ভবন (২য় তলা), নিউ মার্কেট রোড, বাগেরহাট।
টেলিফোন : ০৪৬৮-৬৪৭১১
ই-মেইল: dbastobota@gmail.com