ফরিদপুরে কুমার পাড়ে নৌকার হাট, ব্যাস্ত কারিগরেরা

ফরিদপুরে কুমার পাড়ে নৌকার হাট, ব্যাস্ত কারিগরেরা

সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮ : ৮:৩৪ অপরাহ্ণ || দৈনিক বাস্তবতা

print
ফরিদপুর প্রতিনিধি : বর্ষার পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ ফরিদপুরের জেলার অধিকাংশ উপজেলার খাল বিলসহ নিচু জলাভুমি। আর এসব এলাকার অধিকায়শ এলাকায় নানা প্রয়োজনে দরকার পড়ে পানির বাহন নৌকার। স্বভাবতই এই সময়ে বেড়ে যায় নৌকার চাহিদা। ফলে, ব্যাস্ত সময় পার করছেন জেলার নৌকা কারিগরেরা। জেলায় বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন আকারের তৈরি হওয়া নৌকা বিক্রি হয় হাটে। আর ফরিদপুরের বুক চিরে প্রবাহিত কুমার নদের পাড়, ভাঙ্গা উপজেলায় সপ্তাহে দুইদিন হাঁট বসে। এ হাটে নদের পাড়ে বসে নৌকা বিকিকিনির হাঁট। নৌকা কিনে নিয়ে নদীতে ভাসিয়ে যেতে পারে ক্রেতা তাই নদীর পাড়েই জমানো হয় নৌকার হাঁট, দাবী স্থানীয়দের। স্থাণীয় কারিগরেরা জানান, ক্রেতাদের বাড়তি চাহিদা থাকায় নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। শুক্র ও সোমবারের হাঁটে ডিঙি নৌকা বিক্রি হয় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতারা নৌকা কিনতে ভিড় করেন এই হাটে। কারিগরদের দাবী, প্রতি হাঁটে কয়েকশ নৌকা বিক্রি হয় বেশী। তবে, সাধারণত ডিঙ্গি নৌকার চাহিদা হাঁটে বেশী থাকে। প্রতিটি নৌকা আড়াই হাজার টাকা থেকে শুরু করে চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এতে তাদের যথেষ্ট লাভ বলেও দাবী তাদের। স্থাণীয়দের দাবী, বর্ষা মৌসুমে পানি বন্দি গ্রামাঞ্চলের মানুষের গৃহস্থলীর বিভিন্ন কাজে নৌকার চাহিদা বেড়ে যায়। হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ, মাছধরা, গরুর খাবার সংগ্রহ করা, ধান-পাট কাটা ও আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে যাতায়াতের জন্য বর্ষা মৌসুমে নৌকার প্রয়োজন হয়। নৌকা তৈরির কারিগর সুবল কুমার, পরিতোষ রায় জানান, বর্ষা মৌসুমে রেন্টি, কড়াই, উড়িআম, চাম্বুল কাঠ দিয়ে প্রতিটি নৌকা তৈরি করতে খরচ হয় ২ হাজার টাকা থেকে তিন হাজার টাকা। আর বিক্রি হয় ৩ হাজার থেকে চার বা সাড়ে চার হাজার টাকা পর্যন্ত।

ফরিদপুরে কুমার পাড়ে নৌকার হাট, ব্যাস্ত কারিগরেরা

যদিও একটু ভালো মানের নৌকা প্রকার ভেদে সাত-আট হাজার টাকায় ও বিক্রি হয়ে থাকে। তাদের দাবী, এতে ভালো লাভবান হচ্ছেন তারা। ভাঙ্গা বাজারের ব্যবসায়ী আসাদ মুন্সী বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় নৌকার হাট বসে ভাঙ্গায়। বিভিন্ন জেলা থেকে নৌকা কিনতে এই হাটে ভিড় করেন। টেকেরহাট থেকে নৌকা কিনতে আসা জুয়েল মল্লিক জানান, এখন বর্ষাকাল। চারিদিকে বর্ষার পানিতে থৈ থৈ করছে। আর এখন নৌকা ছাড়া কোনো কাজই হয় না। আর সেজন্যই নৌকা কিনতে এসেছি। দেখছি ঘুরছি পছন্দ হলেই কিনব। যদিও কারিগর ও স্থাণীয়দের দাবী, বষা মৌসুমের কয়েক মাসই নৌকার কদর থাকে, আর বছরের অন্যান্য সময় অলস কাটাতে হয় কারিগরদের। তাই এ শিল্পকে ধরে রাখতে এ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের প্রনোদনা দেয়ার দাবী সকলের।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on Twitter0Share on LinkedIn0Share on Reddit0



Daily Bastobota | bangla news
সম্পাদক : মোঃ জান্নাতুল বাকি
প্রকাশক : আব্দুল মান্নান তালুকদার
মোক্তার বার ভবন (২য় তলা), নিউ মার্কেট রোড, বাগেরহাট।
টেলিফোন : ০৪৬৮-৬৪৭১১
ই-মেইল: dbastobota@gmail.com