ফরিদপুরে স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ফরিদপুরে স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮ : ৬:৩২ অপরাহ্ণ || দৈনিক বাস্তবতা

print
ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুর সদরের বঙ্গোশ্বরদীর সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামকে প্রায় ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যদিও হেয় প্রতিপন্ন করতে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে দাবী করেছেন ওই শিক্ষক । বিদ্যালয় সুত্রে জানা গেছে, সিরাজুল ইসলাম স্কুলটিতে ১৯৯১ সালের ১জানুয়ারী সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৪ সালের ২৫ মার্চ তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে পুণ:নিয়োগ নেন।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আ. মান্নান মল্লিককে ২০১৫ সালের ১ মে তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ সাময়িকভাবে বরখাস্ত করলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পান সহকারী প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম। তিনি ২০১৬ সালের ৩১মার্চ পর্যন্ত প্রায় নয় মাস দায়িত্ব পালন করেন। প্রধান শিক্ষক আইনী প্রক্রিয়ায় নির্দোষ প্রমাণিত হলে ২০১৬ সালের ৩১ মার্চ থেকে পুনরায় দায়িত্ব পান। বর্তমান প্রধান শিক্ষক আ. মান্নান মল্লিক ও অন্যান্য শিক্ষকরা জানান, প্রায় নয়মাস দায়িত্বে থাকাকালে ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে তিনলাখ টাকা উত্তোলন ও ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে টিউশন ফি সহ নিয়মিত আদায়ের প্রায় ১৩ লাখ টাকা বিদ্যালয়ের আয় ব্যয়ের ক্যাশ খাতায় লিপিবদ্ধ করেননি তিনি। যা আগষ্ট মাসে সরকারী নিরীক্ষাকালেও ধরা পড়ে।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি খায়ের মিয়া জানান, ক্যাশখাতা ঠিক না করায় বারবার তাকে তাগিদ দেয়া হয়। একই সাথে তার কাছে থাকা প্রায় ১৩ লাখ টাকার হিসাব দাখিলের জন্যে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কর্তপাত না করায় ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়। নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্যদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সে মোতাবেক তাকে ২৭ সেপ্টেম্বর চিঠি ইস্যু করা হয়। তিনি জানান, এঘটনা তদন্তে বিদ্যালয়ের সভাপতিকে প্রধান করে দাতা সদস্য ফিরোজ আহমেদ ও নির্বাচিত অভিভাবক প্রতিনিধি হাবিবুর রহমানকে নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা জানান, এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত শেষে যথা সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শাফিজার রহমান ও তবিবুর রহমান জানান, স্কুলের অর্থ কেউ আত্মসাত করলে সঠিকভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রতিহিংসা বশত: আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে উদ্দেশ্যমুলকভাবে এগুলো করা হচ্ছে। তিনি দাবী করেন, যথা নিয়মেই সবকিছু প্রধান শিক্ষকের কাছে বুঝে দেয়া হলেও কোন প্রমাণ রাখা হয়নি।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on Twitter0Share on LinkedIn0Share on Reddit0



Daily Bastobota | bangla news
সম্পাদক : মোঃ জান্নাতুল বাকি
প্রকাশক : আব্দুল মান্নান তালুকদার
মোক্তার বার ভবন (২য় তলা), নিউ মার্কেট রোড, বাগেরহাট।
টেলিফোন : ০৪৬৮-৬৪৭১১
ই-মেইল: dbastobota@gmail.com