সিকদার বাড়িতে এবারও দেশের বৃহত্তম দুর্গা উৎসবের আয়োজন

সিকদার বাড়িতে এবারও দেশের বৃহত্তম দুর্গা উৎসবের আয়োজন

অক্টোবর ১৪, ২০১৮ : ৭:০২ অপরাহ্ণ || দৈনিক বাস্তবতা

print
এস.এস শোহান :
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা। পূজা উপলক্ষে সারাদেশ উৎসবের দেশে পরিনত হয়। ধর্মবর্ন নির্বিশেষে সকলেই আনন্দ উপভোগ করে এ পূজায়। এ পূজাকে ঘিরে বাগেরহাট সদর উপজেলার হাকিমপুর শিকদার বাড়িতে করা হয়েছে জমকালো চোক ধাধানো আয়োজন।

৬ মাস ধরে ১৫ জন প্রতিমা কারিগর রাতদিন পরিশ্রম করে তৈরি করেছেন ৭০১টি প্রতিমা। এসব প্রতিমায় ফুটিয়ে তুলিছেন সত্য, ত্রেতা, দাপা ও কলি যুগের কাহিনী। প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষে রাতদিন ব্যস্ত পার করছেন সাজসজ্জার কাজে । দেবীদূর্গা এবছর ঘোড়ায় চড়ে আসবেন আর যাবেন দোলায় । ১৫ অক্টোবর থেকে ১৯ অক্টোবর চলবে দূর্গাপূজা উৎসব। ব্যবস্থা করা হয়েছে আধুনিক লাইটিং ও সাউন্ডসিষ্টেম। বিশেষ আকর্ষন হিসাবে পুকুরের মাঝে স্থাপন করা হয়েছে ৪০ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন লক্ষ্মী নারায়ন। বাগেরহাট শিকদার বাড়ি এবার এই পুজা মন্ডপের দুপাশে নানা পরশা সাজিয়ে বসেছেন শতাধিক দোকানী।

এদিকে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শূরু না হলেও এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম এ পূজা মন্ডপ দেখতে ইতোমধ্যেই ভীড় করছে দর্শনার্থীরা। দর্শনার্থী ও ভক্তবৃন্দের নিরাপত্তার জন্য সকল ব্যবস্থা করেছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। ৪৮টি সিসি ক্যামেরা দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে মন্দির ও আশপাশ এলাকা। এ দিকে লাখো দর্শকদের নিরবিচ্ছিন্ন মোবাইল সংযোগের সুবিধার জন্য স্থাপন করা হয়েছে ভ্রাম্যমান মোবাইল টাওয়ার। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও রাখা হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শতাধিক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

সিকদার বাড়িতে এবারও দেশের বৃহত্তম দুর্গা উৎসবের আয়োজন

দর্শনার্থী গৌরাঙ্গ মজুমদার বলেন, প্রতিবছর শিকদার বাড়িতে পূজার সময় দেখতে আসি। কিন্তু পূজার সময় মানুষের প্রচন্ড ভীর থাকায় ভাল করে দেখতে পারিনা। তাই এবার পূজার আগেই এসেছি। মন্দিরের প্রতিমা সাজসজ্জা দেখে আমি মুগ্ধ। ঝিমি মন্ডল বলেন, মন্ডপে ঘুরে আমরা প্রতিমা দেখে অভিভুত হয়েছি। সব ধর্মের মানুষ এই দূর্গোৎসবে মিলিত হবে। আশাকরি দেশের সেরা এ পূজা মন্ডপে দেশ-বিদেশের ভক্তবৃন্দ ও দর্শনার্থীরা আসবেন। ধর্মীয় আচার অণুষ্ঠানে অংশ নিবেন। দেশের বৃহত্তম এ আয়োজনের মূল কারিগর (ভাস্কর) বিজয় কৃষ্ণ বাছাড় বলেন, গত ছয়মাস ধরে ১৫জন শ্রমিক নিয়ে রাতদিন কাজ করে ৭০১ প্রতিমা তৈরি করেছি। এখানে সত্য, ত্রেতা, দাপা ও কলি এ চার যুগের কাহিনী তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এছাড়া সমসাময়িক কিছু বিষয়ও ওঠে এসেছে প্রতিমায়। দর্শক আকৃষ্ট করতে মন্ডপের পাশে পুকুরের মাঝে ৪০ ফুট উচু লক্ষ্মী নারায়নের প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। আশা করি গতবারের থেকে এবছর দর্শনার্থীরা বেশি আনন্দ উপভোগ করবেন।

সাজসজ্জার মূল দায়িত্বে থাকা মাগুরার কেশবমোড়ের বৈশাখী ডেকারেটরের মালিক মোঃ আব্দুল কুদ্দুস জানান, দুই মাস ধরে ১৫ জন শ্রমিক নিয়ে এ মন্ডপের সাজ সজ্জার কাজ করছি। আমরা চেষ্টা করছি সাজসজ্জার মাধ্যমে দর্শকদের মনকারা একটি মন্ডপে পরিনত করতে। আয়োজকদের পক্ষে দেব প্রসাদ রায় দাবি করে বলেন, খুলনা মোংলা-মহাসড়কের বাগেরহাট সদরের চুলকাঠি বাজার সংলগ্ন হাকিমপুর গ্রামের শিকদার বাড়িতে এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম পূজা মন্ডপের আয়োজন করতে পেরে আমরা আনন্দিত।আগত দর্শকদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি ৩শতাধিক নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবে।

৪৮ টি সিসি ক্যামেরা ও মন্ডপের আশপাশের দেড় কিলোমিটার জুড়ে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে রাতে দর্শনার্থীদের কোন সমস্যা না হয়। আয়োজক লিটন শিকদার জানান, আট বছর আগে বাবার ইচ্ছা পূরণে বাড়িতে দূর্গা পূজার আয়োজন করি। অষ্টম বারের মত দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বেশি প্রতিমা নিয়ে আমাদের এ মিন্দরে দূর্গাপূজার আয়োজন। এ বছর ৭০১ টি প্রতিমা নিয়ে আমাদের এ আয়োজন। গত বছর ছিল ৬৫১টি প্রতিমা। পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় জানান, সারা দেশের মত সারদীয় দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। বাগেরহাটে ৬২৪ টি পুজা মন্ডপের মধ্যে সবচেয়ে বড় পুজামন্ডপটি হাকিমপুর শিকদার বাড়িতে। সেখানে নিরাপত্তার জন্য দু’ধরনের মেটাল ডিরেক্টর ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত থাকবে। শতাধিক পুলিশ সদস্য ছাড়াও আনসার সদস্য এবং সেচ্ছাসেবকরা নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত থাকবে।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on Twitter0Share on LinkedIn0Share on Reddit0



Daily Bastobota | bangla news
সম্পাদক : মোঃ জান্নাতুল বাকি
প্রকাশক : আব্দুল মান্নান তালুকদার
মোক্তার বার ভবন (২য় তলা), নিউ মার্কেট রোড, বাগেরহাট।
টেলিফোন : ০৪৬৮-৬৪৭১১
ই-মেইল: dbastobota@gmail.com