কেশবপুরে খেজুরের রস সংগ্রহের আগাম প্রস্তুতি

নভেম্বর ৬, ২০১৮ : ৬:৪২ অপরাহ্ণ || দৈনিক বাস্তবতা

print
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : ঠিলে ধুয়ে দে বউ-গাছ কাঁটতে যাব, সন্ধে রস ঝেড়ে এনে জাউ রেন্ধে খাঁব, ঠিলে ধুয়ে দে বউ গাছ কাঁটতে যাব। যশোরের যশ খেজুরের রস, এই প্রবাদটি চিরায়ত বাংলার প্রতিটি মানুষের মুখে-মুখে ধ্বনিত হয় শীতের আগমনে। কুঁয়াশার চাঁদরে মোড়ানো সকালের সোনালী সূর্য্যের মৃদু হাসি বাংলার মানুষকে বুঝিয়ে দেয় শীতের আগমনি বার্তা। শীত আসলেই কেশবপুর তথা যশোরের প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চল জুঁড়ে শুরু হয় গাছিদের খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন ঠিলে-খুংগি-দড়া- গাছি দাঁ বালিধরাসহ ইত্যাদি তৈরীর অবিরাম প্রস্তুতি। বেড়ে যায় গাছিদের ব্যস্ততা।

আবহমান বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও ব্যস্ততা বেড়ে যায় দ্বিগুন। মৌসুমের শুরুতে আলতো শীতের সোনালী সূর্যের রোদেলা সকালে গাছিরা বাঁশের ডগা দিয়ে নলি তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করে। কেউবা আবার পাটের আশ দিয়ে দড়া তৈরীতে মগ্ন। বেলা বাড়তেই ঠিলে-খুংগি-দড়া- গাছি দাঁ বালিধরা নিয়ে গাছিরা ছুটে চলে গাছ কাটতে। আবার ভোরে উঠে রস নামাতে কূয়াশা ভেদ করে চড়ে বেড়ায় এক গাছ থেকে আরেক গাছে। এর পর ব্যবস্থা বাড়ে মেয়েদের সকাল থেকে দুপুর অবধি কোন ফুসরত নেই দম ফেলার। মাটির তৈরী কড়াই অথবা এ্যালমুনিয়ামের কড়াইতে রস জালিয়ে গুড় তৈরী করতে সকাল থেকে দুপর পর্যন্ত সময় লাগে। জিরেন রস দিয়ে দানাগুড় অথবা (ছিন্নি) পাটালী) তৈরী হয়। ঘোলা রস দিয়ে তৈরী হয় ঝুলা গুড়। নইলেনের রসের পাটালী খেতে খুব সুস্বাদু হয় বলে বাজারে এর কদর অনেক বেশী। কেশবপুরের খেজুরের রসের খ্যাতি বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। কেশবপুর, মনিরামপুর থেকে তাজা খেজুরের রসের তৈরী গুড় বাংলাদেশের প্রত্যেক অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে থাকে।

পাশাপাশি আমাদের পার্শবর্তী দেশ ভারত, মায়ানমারসহ পৃথিবীর কয়েকটি দেশে কেশবপুরের খেজুরের গুড়ের ব্যাপক কদর রয়েছে। যশোর তথা কেশবপুরকে সারা পৃথিবীতে পরিচিত করেছে যে কয়টি বিষয় তার মধ্যে যশোরের কেশবপুরের খেজুরের রস অন্যতম একটি। কেশবপুরের খেজুরের রসের গুড়ের বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। শীত আসলেই আবহমান বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হয় উৎসবের আমেজ। প্রতি ঘরে ঘরে শুরু হয় পিঠা তৈরীর জন্য ঢেঁকিতে চাউলের গুড়া তৈরীর মহোৎসব। বাংলার প্রতি ঘরে ঘরে সন্ধা হলেই একদিকে শুরু হয় কবি গান অন্য দিকে সন্ধে রস দিয়ে শুরু হয় বিভিন্ন প্রকার পিঠা পুলিসহ পায়েশ তৈরীর ধুম। এ যেন কবির সেই ঐতিহাসিক উক্তির বাস্তব রূপায়ণ; ঠিলে ধুয়ে দে বউ-গাছ কাঁটতে যাব সন্ধে রস ঝেড়ে এনে জাউ রেন্ধে খাঁব।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on Twitter0Share on LinkedIn0Share on Reddit0



Daily Bastobota | bangla news
সম্পাদক : মোঃ জান্নাতুল বাকি
প্রকাশক : আব্দুল মান্নান তালুকদার
মোক্তার বার ভবন (২য় তলা), নিউ মার্কেট রোড, বাগেরহাট।
টেলিফোন : ০৪৬৮-৬৪৭১১
ই-মেইল: dbastobota@gmail.com