নামাজের গুরুত্ব

নামাজের গুরুত্ব

অক্টোবর ৬, ২০১৮ : ৫:৪১ অপরাহ্ণ || দৈনিক বাস্তবতা

print
সালাত
وَاسْتَعِينُواْ بِالصَّبْرِ وَالصَّلاَةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلاَّ عَلَى الْخَاشِعِينَ
আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় তা বিনয়ী ছাড়া অন্যদের উপর কঠিন।(সূরা বাকারা আয়াত : ৪৫)। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ নামাজ কায়েমের কথা মোট ৮২বার বলেছেন।

সলাত ইসলাম ধর্মের পাচটি স্তাম্ভের মধ্যে দ্বিতীয়। আর এই সলাত প্রত্যেক মুমিনের জন্য এফরজ এবাদাত। মহান আল্লাহকে একমাত্র রব বলে শিকার করা অন্যতম মাধ্যম হলো সলাত । সলাত এর মাধ্যমে বান্দা সকল প্রকার পাপ থেকে মুক্ত থাকতে পারে। সলাত এর মাধ্যমে আল্লাহ এবং বান্দার মধ্য ভাল বাসা সৃষ্টি হয়। সালাতের মাধ্যমে বান্দা তার মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে। সালাতের মাধ্যমে পরোকালিন মুক্তি লাভ করা যায়। কুরআন ও হাদিসের আলোকে সলাত বিষয়ে বর্ণনা করা হলো।
বুখারি হাদিস নং:-৩৪২

ইয়াহইয়া ইবন বুকায়র (র)আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আবূ যার (রা) রাসূলুল্লাহ (সঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, হযরত জিবরাঈল (‘আ) এসে আমার বক্ষ বিদীর্ণ করলেন। আর তা যমযমের পানি দিয়ে ধুইলেন। এরপর হিকমত ও ঈমানে পরিপূর্ণ একটি সোনার পাত্র নিয়ে আসলেন এবং তা আমার বক্ষে ঢেলে দিয়ে বন্ধ করে দিলেন। তারপর হাত ধরে আমাকে দুনিয়ার আসমানের দিকে নিয়ে চললেন। যখন দুনিয়ার আসমানে পৌঁছালাম, তখন জিবরীল (‘আ) আসমানের রক্ষক কে বললেনঃ দরযা খোল। তিনি বললেনঃ কে? উত্তর দিলেনঃ আমি জিবরীল, আবার জিজ্ঞাসা করলেনঃ আপনার সঙ্গে আর কেউ আছে কি? তিনি বললেনঃ হাঁ, আমার সঙ্গে মুহাম্মদ। তিনি আবার বললেনঃ তাঁকে কি আহবান করা হয়েছে? তিনি উত্তরে বললেনঃ হাঁ। তারপর আসমান খোলা হলে আমরা প্রথম আসমানে উঠলাম। সেখানে দেখলাম, এক লোক বসে আছেন এবং অনেকগুলো মানুষের আকৃতি তাঁর ডান পাশে রয়েছে এবং অনেকগুলো মানুষের আকৃতি বাম পাশেও রয়েছে। যখন তিনি ডান দিকে তাকাচ্ছেন, হাসছেন আর যখন তিনি বাম দিকে তাকাচ্ছেন, কাঁদছেন। তিনি বললেনঃ খোশ আমদেদ, হে পুণ্যবান নবী (সঃ)! হে নেক সন্তান! আমি জিবরীল (‘আ) কে জিজ্ঞাসা করলামঃ ইনি কে? তিনি বললেনঃ ইনি আদম (‘আ)। আর তাঁর ডানে ও বায়ে তাঁর সন্তানদের রুহ।

ডান দিকের লোকেরা জান্নাতী আর বা দিকের লোকেরা জাহান্নামী। এজন্য তিনি ডান দিকে তাকালে হাসেন আর বাঁ দিকে তাকালে কাঁদেন। তারপর জিবরীল (‘আ) আমাকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় আকাশে উঠলেন। সেখানে উঠে রক্ষক কে বললেনঃ দরযা খোল। তখন রক্ষক প্রথম আসমানের রক্ষকের অনুরুপ প্রশ্ন করলেন। তারপর দরযা খুলে দিলেন। আনাস (রা) বলেনঃ এরপর আবূ যার বলেনঃ তিনি (নবী (সঃ)) আসমানসমূহে আদম (‘আ), ঈদরীস (‘আ), মূসা (‘আ), ‘ঈসা (‘আ), ও ইবরাহীম (‘আ)-কে পেলেন। আবূ যার (রা) তাঁদের অবস্থান নির্দিষ্ট ভাবে বলেন নি। কেবল এতটুকু বলেছেন যে, নবী (সঃ) আদম (‘আ)-কে প্রথম আসমানে এবং ইবরাহীম (‘আ)-কে ষষ্ট আসমানে পেয়েছেন। আনাস (রা) বলেনঃ যখন জিবরীল (‘আ) নবী (সঃ) কে ইদরীস (‘আ) এর পাশ দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন ইদরীস (‘আ) বললেনঃ খোশ আমদেদ! পুণ্যবান নবী (সঃ) ও নেক ভাই! আমি জিজ্ঞাসা করলাম ইনি কে? জিবরীল (‘আ) বললেনঃ ইনি ঈদরীস (‘আ)। তারপর আমি মূসা (‘আ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনি বললেনঃ খোশ আমদেদ! পুণ্যবান নবী (সঃ) ও নেক ভাই। আমি বললাম ইনি কে? জিবরীল (‘আ) বললেনঃ মূসা (‘আ)। তারপর আমি ঈসা (‘আ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম।

তিনি বললেনঃ খোশ আমদেদ! পুণ্যবান নবী (সঃ) ও নেক ভাই। আমি জিজ্ঞাসা করলাম ইনি কে? জিবরীল (‘আ) বললেনঃ ইনি ঈসা (‘আ)। তারপর ইবরাহীম (‘আ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনি বললেনঃ খোশ আমদেদ! পুণ্যবান নবী (সঃ) ও নেক সন্তান। আমি জিজ্ঞাসা করলাম ইনি কে? জিবরীল (‘আ) বললেনঃ ইনি ইবরাহীম (‘আ)। ইবন শিহাব (র) বলেন যে, ইবন হাযম আমাকে খবর দিয়েছেন ইবন ‘আব্বাস ও আবূ হাব্বা আনসারী (র) উভয়ে বলেনঃ নবী (সঃ) বলেছেনঃ তারপর আমাকে আরো উপরে উঠানো হ’ল, আমি এমন এক সমতল স্থানে উপনীত হলাম, যেখান থেকে কলমের লেখার শব্দ শুনতে পেলাম। ইবন হাযম (র) ও আনাস ইবন মালিক (রা) বলেনঃ নবী (সঃ) বলেছেনঃ তারপর আল্লাহ তা’আলা আমার উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায ফরয করে দিলেন। আমি এ নিয়ে প্রত্যাবর্তনকালে যখন মূসা (‘আ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন মূসা (‘আ) বললেনঃ আপনার উম্মতের উপর আল্লাহ কি ফরয করেছেন? আমি বল্লামঃ পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। তিনি বললেনঃ আপনি আপনার রবের কাছে ফিরে যান। কারণ আপনার উম্মত তা আদায় করতে সক্ষম হবে না। আমি ফিরে গেলাম। আল্লাহ পাক কিছু অংশ কমিয়ে দিলেন।

আমি মূসা (‘আ) এর কাছে আবার গেলাম আর বল্লামঃ কিছু অংশ কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেনঃ আপনি আবার আপনার রবের কাছে যান। কারণ আপনার উম্মত এও আদায় করতে সক্ষম হবে না। আমি ফিরে গেলাম। তখন আরো কিছু অংশ কমিয়ে দেওয়া হল। আবার মূসা (‘আ) এর কাছে গেলাম, এবারো তিনি বললেনঃ আপনি আবার আপনার রবের কাছে যান। কারণ আপনার উম্মত এও আদায় করতে সক্ষম হবে না। তখন আমি আবার গেলাম, তখন আল্লাহ বললেনঃ এই পাঁচই (সওয়াবের দিক দিয়ে) পঞ্চাশ (গণ্য হবে)। আমার কথার কোন পরিবর্তন নেই। আমি আবার মূসা (‘আ)-এর কাছে আসলে তিনি আমাকে আবারো বলললেনঃ আপনার রবের কাছে আবার যান। আমি বল্লামঃ আবার আমার রবের কাছে যেতে আমি লজ্জাবোধ করছি। তারপর জিবরীল (‘আ) আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। আর তখন তা বিভিন্ন রঙে ঢাকা ছিল, যার তাৎপর্য আমার জানা ছিল না। তারপর আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হ’ল। আমি দেখলাম তাতে মুক্তার হার রয়েছে আর তাঁর মাটি কস্তুরি।
এভাবেই মহান আল্লাহ তায়ালা নবী (সা:) এর উম্মতের উপর সালাত ফরয করেন। এটা উম্মাতি মুহাম্মাদির আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি উপহার।
মহান আল্লাহ তায়ালা সলাতের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে আর বলেন: ‘‘নিশ্চয়ই সালাত নির্ধারিত সময়ে আদায় করা মু’মিনদের উপর ফার্য (ফরয)।’’ (সূরাহ্ আন-নিসা ৪/১০৩)
অন্যদিকে নবী করিম (সা.) বলেন:( বুখারি হাদিস ৪০২)
আদম (র) আনাস ইবনে মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) বলেন, “মু’মিন যখন সালাতে থাকে, তখন সে তার রবের সঙ্গে একান্তে কথা বলে। কাজেই সে যেন তার সামনে, ডানে থুথু না ফেলে।”
মহান আল্লাহ তায়ালা এই আয়াতে ঈমান দারদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং সলাতের প্রতি যত্নবান হওয়ার কথা বলেছেন।
‘‘আর এটি একটি কিতাব, আমি তা নাযিল করেছি, বরকতময়, যা তাদের সামনে আছে তার সত্যায়নকারী। আর যাতে তুমি সতর্ক কর উম্মুল কুরা (মক্কা) ও তার আশ-পাশে যারা আছে তাদেরকে। আর যারা আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে তারা এ কিতাবের প্রতি ঈমান আনে এবং তারা তাদের সালাতের উপর যত্নবান থাকে’’। (সূরাঃ আল-আন’আম আয়াত.৯২)
মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়ার কথাও বলেছেন। নিম্নে বিষায়ে কুআনুল কারিমের উক্তি।
حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَىٰ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ
তোমরা সালাতসমূহ ও মধ্যবর্তী সালাতের হিফাযত কর এবং আল্লাহর জন্য দাঁড়াও বিনীত হয়ে।
মধ্যবর্তী সালাত বলতে এখানে আছরের সালাত কে বুঝানো হয়েছে।এবং সলাতে যখন দাড়ানো হয় তখন বিনীত ভাবে দাড়াতে বলা হয়েছে।( সূরাঃ আল-বাকারা:২৩৮)
মহান আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদেরকে নামাজ পড়ার তাগিদ দিয়েছেন এবং পাশাপাশি তার পরিবার বর্গের প্রতিও নামাজ আদায়ের প্রতি তাগিদ দিয়েছেন।
মহান আল্লাহ তায়ালার বানি : নিজের পরিবার পরিজনকে নামায পড়ার হুকুম দাও এবং নিজেও তা নিয়মিত পালন করতে থাকো। আমি তোমার কাছে কোন রিযিক চাই না, রিযিক তো আমিই তোমাকে দিচ্ছি এবং শুভ পরিণাম তাকওয়ার জন্যই।( সূরা ত্বহা : ১৩২)
পবিত্র কুরআন ও হাদিসের বর্ণনা মতে যে উক্তি গুলা আমরা পেলাম তা আমাদের সব সমায় মনে প্রনে বিশ্বাসের সাথে তা মানতে হবে।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on Twitter0Share on LinkedIn0Share on Reddit0

Tags: ,



Daily Bastobota | bangla news
সম্পাদক : মোঃ জান্নাতুল বাকি
প্রকাশক : আব্দুল মান্নান তালুকদার
মোক্তার বার ভবন (২য় তলা), নিউ মার্কেট রোড, বাগেরহাট।
টেলিফোন : ০৪৬৮-৬৪৭১১
ই-মেইল: dbastobota@gmail.com